এক নজরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন

কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন সমতটের অধীনে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। নবম শতাব্দিতে এ জেলা হরিকেল রাজাদের অধীনে আসে। এ শহরের ৫কি:মি: পশ্চিম-দক্ষিণে লালমাই ময়নামতিতে দেব বংশ(অষ্টম শতাব্দী) ও চন্দ্র বংশের (দশম ও একাদশরসভা: কুমিল্লা সদর, বরুড়া, চান্দিনা, দাউদকান্দি, লাকসাম । উপজেলাসমুহ: ব্রাক্ষ্রণপাড়া, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, হোমনা, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোর্ট। প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ কুমিল্লা শহরের -পশ্চিমে লালমাই ময়নামতি পাহাড় অবস্থিত এখানে ছিল সমৃদ্ধ সভ্যতা।এখানে রয়েছে শালবন বিহার,কুটিলা মুড়া,চারন্দ্র মুড়া,রুপবান মুড়া,ইটাখোলা মুড়া, সতের রত্ন মুড়া, রানীর বাংলা পাহাড়,আনন্দ রাজার প্রাসাদ, ভোজরাজার প্রাসাদ, চন্ডীমুড়া। প্রচীন নির্দশন হিসেবে এখানে কয়েকটি দীঘি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ৫: লাকসাম, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, বেলতলি, হোমনা, রসুলপুর। গণকবর :বোতিয়রা, মুদাফফরগঞ্জ, নগরীপাড়া, ক্যন্টনমেন্ট, কৃষ্ণপুর ধনঞ্জয়, দিলাবাদ, লাকসাম বিড়ি ফেক্টরি গণকবর ।স্মৃতিস্তম্ভ :কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্মৃতিস্তম্ভ, বোতিয়ারা স্মৃতিস্তম্ভ, পুলিশ লাইন স্মৃতিস্তম্ব, ক্যান্টনমেন্ট স্মৃতিস্তম্ভ, লাকসাম স্মৃতিস্তম্ভ, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্মৃতিসৌধ, হাড়াতলী স্মৃতিস্তম্ব। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানি (&উনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও সমাজসেবক ) মহাস্থবির শীলভদ্র (নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ), শচীন কুমার দেব বর্মণ (প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী), আশরাফউদ্দীন আহমদ চৌধুরী (রাজনীতিবিদ) , অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ(বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ), মেজর এম এ গণি (ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা )।

রাজধানী ঢাকা মহানগরী, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্রগ্রাম এবং বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার সংযোগ স্থানে কুমিল্লা পৌরসভার অবস্থান। কুমিল্লা পৌরসভা দেশের প্রাচীনতম পৌরসভাসমূহের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা। ১৮৬৪ সালে ৩০ শে নভেম্বর কুমিল্লা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পৌরসভার আয়তন ১৬.৬০ বর্গ কিঃমিঃ। এতে ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে।
সীমিত অধিক্ষেত্র নিয়ে ১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লা মিউনিসিপালিটি নামে এর যাত্রা শুরু। সমাজ হিতৈষী অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এ মিউনিসিপালিটির দায়িত্বে ছিলেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে শতাব্দীর মাঝামাঝি ) রাজত্ব ছিল।এ জেলা ১৭৬৫ সালে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে। ১৭৯০ সালে এিপুরা জেলা নামে এই জেলার সৃষ্টি। ১৯৬০সালে কুমিল্লা জেলার নামকরণ হয়। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর ও ব্রাক্ষ্রণবাড়ীয়া মহকুমা দুইটি জেলায় উন্নীত হয় । পৌরসভা ৫, উপজেলা ১২,ইউনিয়ন ১৭১, মৌজা ২৭০৪, গ্রাম ৩৬৪১ । পৌ তাঁরা শহরবাসীর মৌলিক সমাস্যা সমাধানে ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো এ মিউনিসিপালিটি প্রতিষ্ঠার ১০৯ বছর পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের ২২ মার্চ এর নাম পরিবর্তন করে ‘কুমিল্লা পৌরসভা’ নামকরণের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পৌরসভার প্রথম পৌর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহিম। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন আহমেদ ওই সালের জুলাই পর্যন্ত এবং মীর আফতাব উদ্দিন আহমেদ ১৯৭৪ সারের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ও প্রশাসক হিসাবে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা হলেনঃ এম.এ আউয়াল (১৯৭৪-’৭৭), আবদুল জলিল (১৯৭৭-’৮২), আবদুল লতিফ-ভারপ্রাপ্ত (১৯৮২-১ বছর), এহিয়া চৌধুরী (প্রশাসক) (১৯৮২-’৮৪), এইচ.এম. মাসুদ (প্রশাসক) (ফেব্রুয়ারী’৮৪-মার্চ’৮৪), আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার (১৯৮৪-’৮৮), মোঃ আলী হোসেন (প্রশাসক) (১৯৮৮-’৮৯), আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার (১৯৮৯-’৯১), কাজী ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ (প্রশাসক) (৯১-৯২), মোঃ শামছুল হক (প্রশাসক) ফেব্রুয়ারী’৯২-জুলাই’৯২, কাজী ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ ( জুলাই’৯২-অক্টোবর’৯২), মোঃ নূর হোসেন (অক্টোবর’৯২-জুন’৯৩), দুই মেয়াদে কামাল উদ্দিন চৌধুরী (১৯৯৩-২০০১ ও ২০০১-২০০৩), আঞ্জুম সুলতানা সীমা-ভারপ্রাপ্ত (২০০৩-২০০৫), মোঃ মনিরুল হক সাক্কু (সেপ্টেম্বর ২০০৫……..), আঞ্জুম সুলতানা সীমা-ভারপ্রাপ্ত (০৮.০৫.০৭-২ মাস),…………..।

ভিশনঃ —

‘‘২০২৫ সালের মধ্যে কুমিল্লা পৌরসভাকে শিক্ষা স্বাস্থ্য সম্বলিত এবং সকল প্রকার বৈষম্যমুক্ত পরিকল্পিত আধূনিক পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলা হবে’’।

মিশনঃ

  • পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে মহা-পরিকল্পনার আওতায় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, রোড নেটওয়ার্ক, পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকল্পনা, ড্রেনেজ মহা-পরিকল্পনা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা;
  • পরিকল্পিত নিরাপদ শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা;
  • নাগরিক সেবা সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মান-সম্পন্ন সকল প্রকার ভৌত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা প্রদান করা;
  • নিরাপদ শহর গড়ার লক্ষ্যে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচী গ্রহন করা;
  • আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ও স্বয়ং সম্পূর্ণ পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাসহ পৌরসভার সকল পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কার করা।

পৌরসভার দায়িত্ব ও কার্যাবলীঃ

বাংলাদেশের সকল পৌরসভা স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে। উক্ত আইনের আওতায় পৌরসভার দায়িত্ব নিম্নে বর্ণিত হলঃ

  1. স্ব-স্ব এলাকাভুক্ত নাগরিকগণের এই আইন ও অন্যান্য আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিধান অনুসারে সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করা।
  2. পৌর প্রশাসন ও সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা।
  3. পৌর এলাকায় নাগরিকগণের পৌর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ইমারত নিয়ন্ত্রণসহ নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; এবং
  4. নাগরিক নিরাপত্তা ও জনশৃংখলা রক্ষা করা।

ক) মুখ্য কার্যাবলী

  1. আবাসিক, শিল্প এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ।
  2. পানি ও পয়ঃ নিষ্কাশন।
  3. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  4. অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন।
  5. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে রাস্তা, ফুটপাথ, জনসাধারণের চলাচল, যাত্রী এবং মালামালের সুবিধার্থে টার্মিনাল নির্মাণ।
  6. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (২০০৪সনের ২৯ নং আইন) এ প্রদত্ত কার্যাবলী।
  7. পরিবহণ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা, পথচারীদের সুবিধার্থে যাত্রী ছাউনী, সড়ক বাতি, যানবাহনের পার্কিং স্থান এবং বাসষ্ট্যান্ড বা বাস স্টপ এর ব্যবস্থা করা।
  8. নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ।
  9. বাজার ও কসাইখানা স্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা।
  10. শিক্ষা, খেলাধূলা, চিত্ত বিনোদন, আমোদ প্রমোদ এবং সাংস্কৃতিক সুযোগ সৃষ্টি ও প্রসারে সহায়তা, পৌর এলাকার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি।

খ) সরকার প্রদত্ত আদেশ দ্বারা অর্পিত অন্যান্য কার্যাবলী

  1. প্রাথমিক শিক্ষা;
  2. প্রতিরোধ ও নিরাময়মূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা;
  3. পরিবহণ, অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নিরাপত্তা এবং
  4. পৌর এলাকার দারিদ্র্য দূরীকরণ ইত্যাদি।

সেবা গ্রহীতাগণঃ
মহিলা ও দরিদ্র সহ পৌরসভায় বসবাসরত সকল নাগরিক ও স্টেকহোল্ডারবৃন্দ সেবা গ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।